বিশ্বের প্রথম বিদ্যুৎবিহীন রুটি তৈরির যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন মাগুরার শালিখা উপজেলার বুনাগাতি গ্রামের হুমায়ন কবির । সরেজমিন হুমায়ন কবিরের গ...
বিশ্বের প্রথম বিদ্যুৎবিহীন রুটি তৈরির যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন মাগুরার শালিখা উপজেলার বুনাগাতি গ্রামের হুমায়ন কবির । সরেজমিন হুমায়ন কবিরের গ্রামের বাড়ি বুনাগাতি গিয়ে জানা গেছে, ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াকালীন হুমায়ন কবিরের মাতা সালেহা খাতুন অসুস্থ হলে তার পিতা আব্দুর রাজ্জাক রুটি বানাতে ব্যর্থ হওয়ায় হুমায়ন কবির নিজে পরিশ্রম করে রুটি তৈরি করে। তারপর থেকেই নিজের মনে ইচ্ছা জাগে কিভাবে সহজ পদ্ধতিতে রুটি তৈরি করা যায়। এর পর থেকেই শুরু হয় তার গবেষণা। আইটি ফিল্ড ফ্লোরা লিমিটেডে চাকরি করাকালীন অবস্থায়ও তিনি এই রুটি তৈরির পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যান। দীর্ঘ চার বছর গবেষণার পর হুমায়ন কবির পরিবেশবান্ধব দেশি কাঁচামাল দিয়ে কাঠের তৈরি এ যন্ত্রটি উদ্ভাবন করতে সক্ষম হন। ২০১১ সালে নিজের সামান্য পুঁজি ও স্ত্রীর গহনা বিক্রি করে গ্রামের বাড়িতে মাত্র ৩ জন শ্রমিক নিয়ে ৬ শতক জমির উপর টিনশেড ঘর তৈরি করে কারখানা স্থাপন করেন। নিজের মেয়ের নাম লাইবা। এ নামেই কারখানার নাম দেয়া হয় লাইবা রুটি মেকার ফ্যাক্টরি। কারখানায় এ যন্ত্রটি তৈরি করতে মেহগনি ও কালি বাবলা কাঠ ব্যবহার করা হয়। ৬০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ৫-৬ মাস ধরে কাঠটি শুকিয়ে প্রস্তুত করা হয়। তারপর কারখানায় কাঠটি এনে মেশিনে কাজ করে এ যন্ত্রটি তৈরি করা হয়। এ যন্ত্রটি দিয়ে ২০-২৫ প্রকার রুটি তৈরি করা যায়। প্রত্যেক রুটির দৈর্ঘ্য হয় ৮ সেন্টিমিটার। এ যন্ত্রটির দুই প্লেটের মধ্যে যে পলিথিন সেটা আমদানি করা হয় বাইরের দেশ থেকে। পলিথিনটি পরিবেশবান্ধব হওয়ায় যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়। এ যন্ত্রটিতে সেদ্ধ আটার রুটি, গমের কাঁচা আটার রুটি, সেদ্ধ চালের রুটি, তালের রুটি, কালোজিরার রুটি, মাসকলাইয়ের রুটি, মিষ্টি আলুর রুটি, দিল্লিকা রুটি, বেসন রুটি, ভেজিটেবল টোস্ট, মাসরুম রুটি, পরটা, পালক পরটা, পনির পরটা, মাঠার পরটা, লুচি ও ফুচকা ইত্যাদি তৈরি করা যায়। স্মল, সাইলিস ও স্ট্যান্ডার্ড তিনটি সাইজে এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে এ যন্ত্রটি। স্মল সাইজের দাম ৩৮৫০ টাকা, সাইলিস সাইজের দাম ৪৬৫০ টাকা ও স্টান্ডার্ড সাইজের দাম ৫৫০০ টাকা। ইতিমধ্যে দেশে বিদেশে এ যন্ত্রটি সমাদৃত হওয়ায় হুমায়ন কবির ২০১৩ সালে এসআইবিএল ব্যাংক পদক ও ২০১৪ সালে পরিবেশ পদক পেয়েছেন। উদ্ভাবক হুমায়ন কবির জানান, আমার স্বপ্ন ছিল নিজ গ্রামের প্রোডাক্ট তৈরি করবো। আজ আমি সফল হয়েছি। আমার তৈরি এ যন্ত্রটি আজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে। আমার এ যন্ত্রটিতে অতি অল্প সময়ে অনেক রুটি বানানো যায়। তাই দেশে বিদেশে অনেকে আমার তৈরি যন্ত্রটি নকল করে বাজারে ছেড়েছে কিন্তু তারা সফল হয়নি। আমার কারখানায় ইতিমধ্যে ৭০০০ পিচ রুটি তৈরির মেশিন তৈরি করেছি। দুঃখের বিষয় আমি কোন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোন সংস্থার কাছ থেকে সাহায্য পাইনি। সম্পূর্ণ নিজ অর্থায়নে আমি এ কারখানাটি গড়ে তুলেছি। এখানে ২৫ জন শ্রমিক কাজ করে। আমি কোন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সাহায্য সহযোগিতা পেলে এখানে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। মাগুরা বিসিক শিল্পসহায়ক কেন্দ্রের উপ-ব্যবস্থাপক আনোয়ারুল সিদ্দিক বলেন, দেশি উপকরণ ব্যবহার করে হুমায়ন কবির পরিবেশবান্ধব এ যন্ত্রটি উদ্ভাবন করেছেন যা দেশে-বিদেশে সমাদৃত হয়েছে। সে আর্থিক ভাবে সাহায্য সহযোগিতা পেলে পণ্যটির আরও বিস্তার ঘটবে।